ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আমাদের সাথে এই দেশটির রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। আমরা যেটাই ভাবি না কেন ভারত -বাংলাদেশ আমরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর যে অবদান সেটি অনস্বীকার্য। গত ৫ আগষ্ট ছাত্র -জনতার গনঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিবেশী দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন চলছে সেটির যবনিকাপাত ঘটানো দ্রুত প্রয়োজন। ইতিহাসের একটি কঠিন সময় পার করছে বন্ধুপ্রতীম দুটি দেশ। দুটি দেশের অর্থনীতি একে অপরের উপর নির্ভরশীল। আমদানি -রফতানি একে আন্যের উপর নির্ভর করে থাকে। প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রে পর্যটক ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রচুর বাংলাদেশী যাতায়াত করে থাকে। ওপার বাংলায় অবস্থানরত অনেক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ ভ্রমণ করে থাকে নিকটতম আত্মীয় স্বজনের আত্মার টানে। সার্কভুক্ত দেশেগুলির মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী দুটি দেশ ভারত ও বাংলাদেশ। যাই হোক দুই দেশের সম্পর্কের টানা পোড়েনের মধ্যেও উভয় দেশের সম্পর্ককে সহজীকরণের জন্য উদ্যোগ রয়েছে।
দুই দেশের কূটনৈতিকদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেটি হয় বরফ গলার একটি ইঙ্গিত। জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি গনতান্ত্রিক এবং স্থিতিশীল সরকার বাংলাদেশে আসবে এটি সকলের প্রত্যাশা। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটেছে দুটি দেশে যেটি ছিল অপ্রত্যাশিত। যদিও বলা হয়ে থাকে দুই দেশের কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তিবর্গ এই সকল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল। টানা পোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ -ভারতের সম্পর্ক। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দেখা দেওয়া এই চ্যালেঞ্জের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে দুই দেশ। দুই দেশের কূটনৈতিকগণ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসাথে কাজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন ও ভারতের এস.জয়শঙ্করের মধ্যে বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে ( ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স) -এর ফাঁকে তাদের কথা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি নবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সার্ক স্ট্যান্ডি কমিটির বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন। বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর এক্সে (সাবেক টুইটার) -এ একটি পোষ্ট দিয়েছেন,দুইজনের ছবি দিয়ে তিনি ওই পোষ্টে লিখেছেন “বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সম্পর্ক, বিমসটেক। প্রসঙ্গত,বাংলাদেশে ছাত্র- জনতার অভ্যুত্থানের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এটা দ্বিতীয় বৈঠক,এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নিউইর্য়কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তারা বসেছিলেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে মাস্কাটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের ব্যপ্তি ছিল আধা ঘন্টার কম। আলোচনায় তাঁরা দুজন দুই দেশের সম্পর্কে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ গুলো দূুর করতে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের আলোচনায় আগামী এপ্রিলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আয়োজনের প্রসঙ্গটি এসেছে। এপ্রিলে এই বৈঠকটি অতিগুরুত্বপূর্ণ আমরা আশা করি এই বৈঠকের পূর্বেই দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। লেখাটির প্রথমেই বলেছিলাম দুটি দেশকে এক যোগ কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। একে অন্যের স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করতে হবে। মতবিরোধ হতেই পারে কিন্তু লক্ষ্য থাকতে হবে এক সেটি হচ্ছে উন্নয়ন। লেথক-সমাজকর্মী বাপি সাহা।
Leave a Reply