1. dailybanglarkhabor2010@gmail.com : দৈনিক বাংলার খবর : দৈনিক বাংলার খবর
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

ভারত নেপাল ভূটানের সাঙ্গে যৌথ অর্থনীতি গড়ে তোলার আহব্বান

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ, ভারত , নেপাল ও ভূটান এই চার দেশ মিলে একটি যৌথ অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, ভৌগলিক অবস্থানরত কারণে যৌথ অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলে এই চার দেশ লাভবান হবে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর বাংলােেদশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশনের সম্মেলন ২০২৫-এ প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা একথা বলেন। অধ্যাপক ইউনুস বলেন, প্রাকৃতিক দিক থেকে আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। এর পাশাপাশি রয়েছে বিপুল জনগোষ্ঠী যা দেশের জন্য বড় সম্পদ।
অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে যে বক্তব্য রেখেছেন সেটি অনেক গুরুত্ব বহন করে। প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যাবে এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশ প্রাকৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। যে চারটি দেশের কথা বলা হয়েছে এই চারটি দেশই ভৌগলিক ভাবে সমৃদ্ধ দেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবেও পরিচিত। প্রাকৃতিক সম্পদ আর বৃহৎতর জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলে উন্নয়ন করা সম্ভব। এই পৃথিবীতে আমরা অবশ্যই এক অপরের উপর নির্ভরশীল। ঠিক তেমনিভাবে একটি দেশ অন্য একটি দেশের উপর নির্ভরশীল আরেকটি দেশ। যেমন ব্যক্তির উপর ব্যক্তি নির্ভরশীল ঠিক তেমনি ভাবে আরেকটি দেশ আরেকটি দেশের উপর নির্ভরশীল। যে দেশগুলির কথা বলা হয়েছে সে দেশগুলির সাথে বাংলাদেশের রয়েছে আবেগীয় সম্পর্ক। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে যে ভাবে সযোগিতা প্রদান করেছে সেটি কিন্তু আজও স্মরণীয়। মহান মুক্তিযুদ্ধেও পরবর্তী পর্যায়ে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী যে দেশটির আবির্ভাব ঘটেছিল সেই হচ্ছে ভূটান কয়েক মিনিটে ব্যবধানে তার বার্তা এসেছিল সেই দেশটি হচ্ছে ভারত। হিমালয় কন্যা নেপাল সকল সময়ে বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং রয়েছে। দেশটির আয়তন ছোট হলেও সহযোগিতার ক্ষেত্রে রয়েছে সকল সময় ছিল উদার। নেপাল পর্যটক নির্ভররাষ্ট্র। নেপালের রয়েছে দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ইতিহাস ঐতিহ্য অবলম্বন করে দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে। যারা মনে প্রাণেভাবে “অতিথি নারায়ণভব” দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশগুলিতে রয়েছে দক্ষ জনগোষ্ঠী। সেই জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলে অবশ্যই একটি চমক তৈরি করতে পারবে। দক্ষিন এশিয়ার এই দেশগুলি এটি সময়ের চিন্তার ফসলে তৈরি হয়েছিল সার্ক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে সার্ক সে ভাবে কোন অবদান রাখতে পারছেন না। বিভিন্ন সময়ে আমাদের পশ্চিমা বিশ্বের উপর নির্ভর করতে হয়। তাদের হুুংকার সহ্য করে আমাদের চলতে হয়। উন্নয়নের কথা বলে যে, অর্থনৈতিক ঋণ বা সহযোগিতা প্রদান করে থাকে সেখানে আমাদের যে শর্ত প্রদান করা হয়ে থাকে তা পূরণ করা অনেক কঠিন। বাংলাদেশের গর্মেন্টস একটি বড় ধরণের শিল্প হলেও পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। উন্নয়ন তহবিলে সহযোগিতার কথা বলে যারা আমাদের সহযোগিতা তারা মনে করে থাকে তাদের দয়া বা সহযোগিতায় আমরা আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করছি। সার্ক প্রতিষ্ঠা হলেও সেখানে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। সার্ক একটি অকার্যকর সংগঠনে পরিণত হয়েছে ইতিমধ্যে। সার্ক -কে সক্রিয় করার সময এসেছে। মার্কিন প্রশাসনে পরিবর্তনের পরবর্তী পর্যায়ে দেখা দিয়েছে ভিন্ন রকমের চিত্র যা আমাদের অবাক করেনি হতাশ করেছে। অভিবাসন আইনের পরিবর্তন,ইউএসএআইডি -এর সার্বিক সহযোগিতা (চলমান উন্নয়ন) প্রকল্প নব্বই দিনের জন্য স্থগিতাদেশ ও বিভিন্ন বিধিনিষেধের প্রয়োগ আমাদের দেশগুলিতে পড়তে শুরু করেছে। বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্পগুলিতে কর্মরত সাধারণ মানুষগুলো হতাশা গ্রস্ত হয়েছে। কিছু দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে সুইস সহযোগিতাও আগামী২০২৮ সালের পরবর্তী পর্যায়ে সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। এই লেখার শুরুতে বলেছিলাম বাংলাদেশের সাথে ভারতের রয়েছে এক আবেগীয় সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে ত্যাগ করা বিছিন্ন করা যায় না আমাদের এখন রয়েছে এক সাথে কাজ করার সুযোগ। এই সুযোগকে যদি আমরা হেলায় হারাই দক্ষিণ এশিয়ার জন্য মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। প্রকৃতিক উৎসকে কাজে লাগাতে পারলেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সমগ্রবিশ্ব এখন উত্তপ্ত বিভিন্ন ধরণের ইস্যুতে। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আমাদের করতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে তার অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেছেন এবং বাজেট উস্থাপনকালে সুস্পষ্ট ভাবে ঘোষণা দিয়েছে সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার সবার আগে। ইতিমধ্যে ১৩৭ কোটি রুপির আর্থিক সহযোগিতা প্রদানে ঘোষণাও প্রদান করেছেন। যেটি একটি ইতিবাচক দিক। একসাথে পথ চলতে পারলে সেটি হবে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত ।
বংলাদেশের রয়েছে কৃষিসম্পদ, ভারীশিল্প এবং গার্মেন্টস শিল্প যা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। কৃষি সম্পদের মধ্যে রয়েছে ধান,পাটগম,আখ , তামাক জাতীয় দ্রব্য এবং মৌসুমী ফল। ভারত যেমন কৃষিতে সমৃদ্ধশালী দেশ ঠিক তেমনিভাবে ভারীশিল্প ও উন্নত। নেপাল পাহাড়ী জনভূমির দেশ হলেও তাদের কৃষিসম্পদ অনেক উন্নত। কৃষিতে উৎপদানের অন্যত মদেশ নেপাল। নেপালে ডাল রপ্তানী হয়ে থাকে। ভূটানের কথা একটুনা বললে লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। পাহাড়ী দেশ হলেও ভূটান ফল উৎপাদনে অন্যতম।
সার্কভূক্ত দেশগুলির মধ্যে যদি সমম্বয় থাকে তাহলে আমাদের পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে কোন সামগ্রীর জন্য হাতপাততে হবেনা। “উন্নয়ন” -এর জন্য একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে প্রতিহিসংসা মনোভাব ত্যাগ কওে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি কথা মনে পড়ে য়ায়,“তিনি বলেছিলেন, প্রতিবেশী সব দেশের পাশে থাকতে হবে এবং একসাথে কাজ করতে হবে।”বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস পাশাপাশি দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোদারের কথা বলেছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর -কে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আলোচনার জন্য। দুই দেশের আলোচনা মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এই আলোচনা এই দুদেশের জন্য অতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের উন্নয়নে যেমন ভারতের প্রয়োজন ঠিক তেমনিভাবে ভারতের প্রয়োজনে বাংলাদেশকে প্রয়োজন। উন্নয়ন কখনই কারোর একার পক্ষে সম্ভব নয় । বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সার্ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন,পানি বন্টনের উপর কথা বলেছেন।
আমাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠকের উপর আর সামনে বিসমটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনাটি যেন সফল হয় সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। লেখক- বাপি সাহা,সমাজকর্মী, সাংবাদিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক বাংলার খবর
Theme Customized By BreakingNews